Trending

হাওয়া (আঃ) যেভাবে সৃষ্টি হলেন - হযরত হাওয়া আঃ এর জীবনী

হাওয়া আ. যেভাবে সৃষ্টি হলেন - হযরত হাওয়া আঃ এর জীবনী

 

আদি পিতা হজরত আদম .-কে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মানুষ! পুনরুত্থানের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তাহলে (চিন্তা করে দেখ) আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র হতে, অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর মাংসপিন্ড হতে পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট বা অপূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট অবস্থায় (আমার শক্তি-ক্ষমতা) তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য... (সূরা হজ, (২২) আয়াত, )

 

আদম .-এর সৃষ্টি : এই আয়াতের মাধ্যমে বুঝা যায়, মানুষ নামের প্রজাতির সূচনা হয়েছে আদম আলাইহিস সালাম থেকে তাকে সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং তারপর পরবর্তী পর্যায়ে শুক্র থেকেই মানব বংশের ধারাবাহিকতা চলতে থাকে যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের সৃষ্টি শুরু করেন মাটি থেকে তারপর তার বংশ-ধারা চালান একটি নির্যাস থেকে যা বের হয তুচ্ছ পানির আকারে’ (সূরা আস সাজদাহ, আয়াত, )

 

 

হাওয়া .-এর সৃষ্টি : জান্নাতে আদি পিতা হজরত আদম .-এর সঙ্গী ছিলেন?

হাওয়া .-এর সৃষ্টি : জান্নাতে আদি পিতা হজরত আদম .-এর সঙ্গী ছিলেন আদি মাতা হজরত হাওয়া . তাকে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে- ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বলেন, আল্লাহ তায়ালা ইবলিসকে অভিশপ্ত করার পর আদমের প্রতি মনোনিবেশ করলেন আদম আলাইহিস সালামকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করা হল এবং তার বাম পাঁজর থেকে একটি হাড নেয়া হলো আর সে স্থানে গোশত সংযোজন করা হলো তখনও আদম ঘুমিয়ে ছিলেন তখন হাড থেকে তার স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করা হল এবং তাকে যথাযথ রূপ দান করা হল যেন আদম তার কাছ থেকে পরিতৃপ্ত থাকেন যখন তন্দ্রাচ্ছন্নতা কাটল এবং নিদ্রা থেকে জাগ্রত হলেন, তখন হাওয়াকে তার পাশে বসা দেখলেন সাথে সাথে তিনি বললেন, আমার গোশত, আমার রক্ত আমার স্ত্রী (ইবনে কাসীর)

 

 

আদম .-এর পাশে হাওয়া . : অন্য বর্ণনায ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্য সাহাবী থেকে এসেছে, ইবলিসকে জান্নাত থেকে বের করা হল আর আদমকে জান্নাতে বসবাসের সুযোগ দেয়া হল কিন্তু তিনি জান্নাতে একাকীত্ব অনুভব করতে থাকলেন তারপর তার চোখে ঘুম নেমে এলো, তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তার মাথার পাশে একজন নারী  বসে আছেন, যাকে তার পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? বললেন, আমি একজন নারী

 

 

আদম বললেন, তোমাকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে? বললেন, যাতে তুমি আমার কাছে প্রশান্তি লাভ কর তখন ফেরেশতাগণ তাকে প্রশ্ন করলেন, হে আদম! এর নাম কি? আদম বললেন, হাওয়া তারা বলল, তাকে হাওয়া কেন নাম দেয়া হল? তিনি বললেন, কেননা তাকে জীবিত বস্তু থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে (তাফসিরে ইবনে কাসির, ১ম খণ্ড, ২৩৫)

 

আল্লাহ তায়ালার আদে : হাওয়া .-কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা বললেন, ‘হে আদম, তুমি তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং তা থেকে আহার কর স্বাচ্ছন্দ্যে, তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী এবং এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে (সূরা বাকারা, আয়াত, ৩৫)

 

হাওয়া .-কে আদম .-এর পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করার সমর্থনে আরেকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা নারীদের ব্যাপারে আমার উপদেশ গ্রহণ কর কেননা, তাদেরকে পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে আর পাঁজরের সবচেয়ে বাঁকা অংশ হচ্ছে, উপরিভাগ তুমি যদি তাকে সোজা করতে যাও তবে তাকে ভেঙ্গে ফেলবে আর যদি ছেড়ে দাও, সব সময বাঁকাই থেকে যাবে সুতরাং নারীদের ব্যাপারে উপদেশ গ্রহণ কর (বুখারি, হাদিস, ৩৩৩১, মুসলিম, হাদিস, ১৪৬৮)

 

 

একদা হযরত হাওয়া (.) একা একা জান্নাতে ঘুরাঘুরি করছেন এমন সময় তিনি একটি কাঁন্নার আওয়াজ শুনে থমকে দাঁড়ালেন হাওয়া (.) দারুণ বিস্মিত হলেন জান্নাতে তো কোনো মানুষের পদচারণা নেই তাহলে কান্নার আওয়াজ কোথা হতে আসছে একটু এগিয়ে দেখতে পেলেন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ফেরেশতা কাঁদছে আসলে ফেরেশতা ছিলেন না সে ছিল শয়তান ফেরেশতারূপী শয়তান হাওয়াকে দেখে বলতে লাগলেন-‘আপনার জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে তাই কাঁদছিহাওয়া (.) কারণ জানতে চাইলে শয়তান একটি ফলের গাছের দিকে ইশারা করে বললো- গাছের ফল যে ভক্ষণ করবে সে কখনো জান্নাত হতে বের হবে না সে আমরণ জান্নাতে থাকতে পারবে

 

শয়তান নানা কৌশলে মিথ্যা কথা বলে হাওয়া (.)কে প্ররোচনা দিতে লাগলো হাওয়া (.) বললেন আমি আমার প্রভুর নির্দেশ কিছুতেই অমান্য করতে পারবো না শয়তান আবারো তাকে ফলের মিথ্যা গুণাগুণ বলতে শুরু করলো দুজনের মাঝে কিছুক্ষণ নিয়ে বাকবিতর্ক হলো হাওয়া (.) বলেন খাবো না আর শয়তান বললো আপনার ভালোর জন্যই ফলটি খেতে বলেছি এভাবে জেরা চলছিলো দুজনের জেরার একটি সময় এসে হাওয়া (.) শয়তানেরর প্ররোচনায় পড়ে গেলেন হাওয়া (.) নিষিদ্ধ ফল খেয়ে নিলেন পরে কৌশলে শয়তান বিবি হাওয়া (.)-এর মাধ্যমে আদম (.)-এর অজান্তে নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করিয়ে দিলেন

 

 

 

যার আলোচনা কোরআনে এভাবে বিবৃত হয়েছেঅতঃপর শয়তান তাদের উভয়ের অন্তরে কুমন্ত্রণা প্রদান করলো যাতে তাদের সতর যা গোপন ছিলো তা তাদের সম্মুখে উন্মোচিত করে দেয়া হলো আর শয়তান বললো, তোমাদের প্রতিপালক যে তোমাদেরকে বৃক্ষ হতে বারণ করেছেন তা শুধু এজন্য যে, তোমরা যাতে ফেরেশতা হয়ে যাও কিংবা অনন্ত জীবন লাভ করো সে নানারকম শপথ করে বললো, আমি তোমাদের হিতাকাক্সক্ষী হয়ে ভালো উপদেশ দিচ্ছি অতঃপর সে তাদেরকে ধোঁকায় নিপতিত করলো যখন তারা নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করে নিলো তখন তাদের গুপ্তাঙ্গ প্রকাশিত হয়ে পড়লো অতঃপর তারা লজ্জিত হয়ে জান্নাতের পাতা দিয়ে তাদের লজ্জাস্থান ঢাকতে লাগলেন

 

এরপর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এই বৃক্ষ হতে বারণ করিনি? আর আমি কি বলিনি যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (সূরা আরা : ২০,২১) যখন তারা নিষিদ্ধ ফল খেয়ে নিলেন তখন আল্লাহ তায়ালা হাওয়া (.) আদম (.)কে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন বললেন মুহূর্তে তোমরা জান্নাতে থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছো সুতরাং তোমরা পৃথিবী হতে কষ্ট সাধনা করে আমার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পুনরায় জান্নাতে ফিরে আসবে সময় মা হাওয়া (.) দুনিয়ার পশ্চিম গোলার্ধে জেদ্দা শহরে অবতরণ করলেন আর আদম (.) পূর্ব গোলার্ধে শ্রীলংকার সন্দীপে

 

 

তারপর কয়েক শত বছর পর তারা একত্রিত হয়েছিলেন এরপর তারা উভয়ে দুনিয়া আবাদ করতে লাগলেন আল্লাহর নির্দেশে সপ্তম আকাশে অবস্থিত বায়তুল মামুরের নীচে মক্কায় বাইতুল্লাহ শরীফ নির্মাণ করলেন পৃথিবীতে তাদের মাধ্যমে মানব জন্মের সূচনা করলেন হযরত আদম (.)-এর ঔরসে মা হাওয়া (.)-এর গর্ভে মোট ২৩৯ জন মতান্তরে ৩৬১ জন সন্তান জন্ম গ্রহণ করে তন্মধ্যে হযরত শীষ (.) ছাড়া বাকি সবাই জোড়া জোড়া জন্ম হয়েছিলেন আর বিধান ছিলো এক জোড়ার সহোদর ভাই অপর জোড়ার ভগ্নির সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবে কিন্তু একই জোড়ার পরস্পর ভাই-বোনদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ ছিলো

 

মা হাওয়া সবসময় আদিপিতা আদম (.)-এর সাথে সাথেই থাকতেন আদমের প্রতি যেসব বিধানাবলী আসতো তা সর্বপ্রথম পালনকারী ছিলেন মা হাওয়া (.) আদম (.) আল্লাহর নবী ছিলেন তাই মা হাওয়া আদম (.)কে সেভাবে মেনেছেন যেভাবে স্বামী হিসেবে মেনেছেন হযরত আদম (.)-এর মৃত্যুর এক বছর পর মা হাওয়া ইন্তেকাল করেন সে হিসেবে মা হাওয়া (.) এর বয়স হয়েছিলো ৯৬১ বছর

Post a Comment

Previous Post Next Post

Contact Form