Trending

আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে | জাহান্নামে সাপের আচরণ: কি ঘটবে আপনার সাথে - জাহান্নামে সাপের সম্পর্ক: কি প্রত্যাশা করবেন

কবর এমন এক স্থান যেখানে সাহায্যের জন্য বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন বলতে কেউই থাকবে না। শুধুই নেক আমল হবে তার সাথী। দুনিয়ার হায়াতে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, কোরআন তেলাওয়াতসহ ইত্যাদি নেক আমল তাকে আজাব থেকে রক্ষা করবে। মুনকির-নকির ফেরেস্তাদ্বয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে কবর হবে উত্তম স্থান। আর উত্তর দিতে না পারলে ভয়াবহ শাস্তির জায়গা। হজরত উসমান (রা.) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন তখন এমনভাবে কাঁদতেন যে, নিজের দাড়ি মোবারক ভিজে যেত।


একবার হজরতকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি জান্নাত ও জাহান্নাম স্মরণ করে এত কাঁদেন না, যতটুকু কাঁদেন কবর দেখে, এর কারণ কী? তিনি বললেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, কবর হচ্ছে আখেরাতের প্রথম ধাপ। এখানে যদি কেউ রক্ষা পেয়ে যায় তাহলে পরবর্তী সব ধাপ অতিক্রম করা তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। আর এখানে কেউ যদি রক্ষা না পায় তাহলে পরবর্তী সব ধাপ খুব কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরো বললেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, মেরাজের রজনীতে আমি যত ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছি তার মধ্যে কবরের আজাবই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস নং : ২৩০৮)।

বেনামাজির কবরে কী ধরনের আজাব হবে এ সম্পর্কে হাদিসে আছে, বেনামাজির কবরে তিন ধরনের শাস্তি হবে : ১. কবর তার জন্য এমন সংকীর্ণ হবে যে, এক পাশের বুকের হাড় আরেক পাশে ঢুকে যাবে। ২. তার কবরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। ৩. তার কবরে এমন একটি সাপ নিযুক্ত করা হবে যার চক্ষু হবে আগুনের। আর নখগুলো হবে লোহার। তার প্রত্যেকটি নখ লম্বা হবে এক দিনের দূরত্বের পথ। সাপের আওয়াজ হবে বজ্রের মতো বিকট। সাপ ওই বেনামাজিকে বলতে থাকবে ‘আমাকে আমার রব তোর ওপর নিযুক্ত করেছেন যাতে ফজরের নামাজ নষ্ট করার কারণে সূর্যোদয় পর্যন্ত তোকে দংশন করতে থাকি। জোহরের নামাজ নষ্ট করার কারণে আসর পর্যন্ত দংশন করতে থাকি। আসর নামাজ নষ্ট করার কারণে মাগরিব পর্যন্ত। আর মাগরিব নামাজ নষ্ট করার কারণে এশা পর্যন্ত। আর এশার নামাজ নষ্ট করার কারণে ফজর পর্যন্ত তোকে দংশন করতে থাকি।’ 

এ সাপ যখনই তাকে একবার দংশন করবে তখনই সে ৭০ হাত মাটির নিচে ঢুকে যাবে (উঠিয়ে আবার দংশন করবে) এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত আজাব হতে থাকবে। নেক্কার ও বদকারের কবরের অবস্থা একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মোমিন ব্যক্তির কবরে দুজন ফেরেশতা আসে ও তাকে বসায়। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করে, তোমার রব কে? সে উত্তর দেবে, আমার রব আল্লাহ। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবে, তোমার দীন কী? সে উত্তরে বলবে, আমার দীন হচ্ছে ইসলাম। তারা এবার তাকে জিজ্ঞাসা করবে, ওই ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল? সে উত্তর দেবে ইনি হচ্ছেন আমাদের রাসুল (সা.)। তারা এবার তাকে জিজ্ঞাসা করবে (এ উত্তরগুলো) তুমি কীভাবে জানলে? সে বলবে আমি আল্লাহর কিতাব থেকে জেনেছি এবং তার ওপর ইমান এনেছি। তখন রাসুল (সা.) বলেন, এটাই হচ্ছে আল্লাহতায়ালার ওই বাণীর মর্ম, যেখানে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ মোমিনদের দৃঢ় বাক্যের ওপর দৃঢ় রাখেন পার্থিব জীবনে ও আখেরাতে।’ রাসুল (সা.) বলেন, তখনই আসমান থেকে এক ঘোষণাকারী ডাক দিয়ে বলবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তাকে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার দিকে জান্নাতের দরজা খুলে দাও। তখন তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। তার কাছে জান্নাতের শান্তি ও সুঘ্রাণ আসতে থাকবে। কবরকে তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। প্রিয় পাঠক! চলুন, আমরা সবাই কবরের আজাব থেকে বাঁচার উপায় কী? তা জেনে আমলসমূহ বাস্তবায়ন করি। 


হাদিসে কবরের আজাব থেকে বাঁচার কয়েকটা আমলের কথা উল্লেখ আছে, সেখান থেকে এখানে আমি মাত্র দুটি উল্লেখ করছি। (১) রাসুল (সা.) বলেছেন, সুরা মুলক কবরের আজাব থেকে রক্ষাকারী। যে ব্যক্তি এ সুরা পাঠ করবে, এ সুরা তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবে। (কুরতুবি) রাসুল (সা.) নিয়মিত রাতে ঘুমানোর আগে সুরা মুলক তেলাওয়াত করতেন। (২) কবরে আলো পাওয়ার আমল হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। হাদিসে আছে ‘নামাজ নুর বা আলো’ কবরে ও হাসরের ময়দানের আলো হবে নামাজ। আল্লাহতায়ালা আমাদের কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন। 


কবরে আজাবের সাপের কথা বর্ণনা দিয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, 'রসুল (সা.) বলেছেন, পাপীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কবরে এমন এক বিষাক্ত সাপ নিযুক্ত করা হবে, যে সাপের বিষ তো দূরের কথা তার নিঃশ্বাসেও এমন বিষ হবে যে, দুনিয়াতে সে যদি একটি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, তাহলে তার বিষ্ক্রিয়ায় সব সবুজ গাছপালা মরে শুকিয়ে যাবে। পৃথিবীর মাটিতে কেয়ামত পর্যন্ত আর সবুজ গাছপালা গজাবে না। (তিরমিজি, দারেমি) 


আখিরাতে যখন বান্দার জন্য ঠিকানা হবে জান্নাত, তারা বেঁচে যাবে। আর যারা জাহান্নামে পতিত হবে, তাদের জন্য রয়েছে অসহ্য সব শাস্তি। একটা শাস্তি হচ্ছে সাপ। জাহান্নামের সাপের আকৃতি হবে বড় ধরনের উটের মতো এবং বিচ্ছুর আকৃতি হবে খচ্চরের মতো বিরাট। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যারা জাহান্নামী হবে তাদের শাস্তির জন্য উপকরণ হিসাবে সেখানে রাখা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে আগুনের সাপ। সেই সাপের আকৃতি হলো বড় ধরনের উটের মতো। আর এই সাপ যদি একবার কোনো দোযখীকে দংশন করে তাহলে তার বিষক্রিয়া থাকবে বহু দিন পর্যন্ত এবং ক্ষত জায়গা হতে রক্ত বাহির হবে দীর্ঘ ৪০ বছর পর্যন্ত। তারপরে এই সাপের ন্যায় বড় ধরনের বিচ্ছুও জাহান্নামে থাকবে প্রচুর পরিমাণে। তাদের আকৃতি হবে খচ্চরের মতো বিরাট। এরাও একবার দংশন করলে তাদের বিষক্রিয়াও থাকবে ৪০ বছর পর্যন্ত (ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৬৭৬; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৭৪৭১; সিলসিলা ছহীহা, হা/৩৪২৯)। অপর এক বর্ণনায় আছে, জাহান্নামের সাপ হবে অত্যন্ত বিষাক্ত ও টাকমাথাবিশিষ্ট। তার দু’চোখের উপর দু’টি কালো দাগ থাকবে। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন, অথচ সে তার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সেই সম্পদকে টেকোমাথা বিষাক্ত সাপে রূপান্তরিত করা হবে। যার দু’চোখে দু’টি কালো বিন্দু থাকবে। কিয়ামতের দিন ঐ সাপ তার গলা পেঁচিয়ে ধরবে এবং তার দু’চোয়াল কামড়ে ধরে বলতে থাকবে, আমি তোমার সঞ্চিত ধন। আমি তোমার সঞ্চিত ধন’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪০৩; মিশকাত হা/১৭৭৪)।




 Related Tag:
জাহান্নামে সাপের আচরণ: কি ঘটবে আপনার সাথে.
সাপের প্রভাব জাহান্নামে: জানুন কি হবে 
জাহান্নামে সাপের রহস্য: আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে 
সাপের সঙ্গী: জাহান্নামের অভিজ্ঞতা বুঝুন 
জাহান্নামে সাপের উপস্থিতি: আপনার ভাগ্য কি হবে 
জাহান্নামে সাপের সম্পর্ক: কি প্রত্যাশা করবেন
জাহান্নামের সাপ 
জাহান্নামের চিৎকার
জাহান্নামের শাস্তি 
জাহান্নামের আজাব 
জাহান্নামের আজাব সম্পর্কে হাদিস 
জাহান্নাম কেমন হবে 
জাহান্নামের গল্প 
জাহান্নামের আওয়াজ

2 Comments

  1. আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন আমিন

    ReplyDelete
  2. আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করে দাও

    ReplyDelete
Previous Post Next Post

Contact Form